স্ত্রী দু/ধ খেয়ে ফে’ল’লে স্বা’মী-স্ত্রী’র তা/লা’ক
স্ত্রী দু/ধ খেয়ে ফে’ল’লে স্বা’মী-স্ত্রী’র তা/লা’ক
স্ত্রীর বুকের দুধ পান করলে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক বা তালাকের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা বা গুজব। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, স্বামী যদি ভুলবশত বা উত্তেজনার বশে স্ত্রীর বুকের দুধ পান করে ফেলেন, তবে তাদের বিয়ে ভাঙবে না এবং তালাকও হবে না।
ইসলামি ফিকহ ও ফতোয়ার আলোকে বিষয়টি নিচে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. দুধ পানের বয়সসীমা
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, দুধ পানের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার (দুধ-মা ও দুধ-সন্তানের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার) একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা রয়েছে।
• কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২ বছর থেকে আড়াই বছর।
• এই বয়সের পর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কারও দুধ পান করলে তার সাথে দুধ-মায়ের সম্পর্ক তৈরি হয় না। যেহেতু স্বামীর বয়স এই সীমার অনেক ওপরে, তাই স্ত্রীর দুধ পানের কারণে স্ত্রী তার জন্য হারাম বা তালাক হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
২. শরিয়তের বিধান ও সতর্কতা
• তালাক হবে না: স্ত্রীর দুধ পানের কারণে বিবাহ বন্ধন সম্পূর্ণ অটুট থাকে।
• সতর্কতা: বিবাহ না ভাঙলেও, ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যেকোনো নারীর (এমনকি নিজের স্ত্রীরও) বুকের দুধ পান করা অনুচিত এবং ফুকাহায়ে কেরামের মতে এটি গুনাহের কাজ। দুধ হচ্ছে শিশুর খাদ্য, তাই স্বামীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত যাতে সহবাসের সময় অসাবধানতাবশত দুধ মুখের ভেতর চলে না যায়। তবে কোনো কারণে যদি এমনটা ঘটেও যায়, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেই হবে, বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।
রেফারেন্স গ্রন্থাবলী:
এই ফতোয়াটি ইসলামি আইন শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ যেমন—ফাতওয়ায়ে শামী, সুনানে দারা কুতনী এবং সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকী-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সুতরাং, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এই ধরণের বিভ্রান্তিকর ও চটকদার শিরোনামের ভুয়ো খবরে কান দেবেন না।