টেবিলের নিচ দিয়ে যদি সত্যি কেউ টাকা নিয়ে থাকে তাহলে দেশবাসীর কাছে খোলাসা করেন দেশবাসী আপনাদের পক্ষে থাকবে। এখনই তো সময় এগুলো বন্ধ করার, আপনারা যদি এখনো খোলাসা না করেন, তাহলে কখনোই এগুলো বন্ধ হবে না।
নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যে উঠে এসেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, টেবিলের তলা দিয়ে টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে, ব্যবসায়ীদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমনকি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ফাইল আটকে থাকা এবং টাকা লেনদেনের বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা দপ্তরে যদি সত্যিই টেবিলের নিচ দিয়ে অ*বৈধভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সরকার কেন তা বন্ধ করবে না? দু*র্নী*তি বন্ধ হলে সেই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে শুধু ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিলেই তো হবে না।
আমরা মাসুদুজ্জামানের কাছে অনুরোধ করব, তিনি যেন বিষয়টি আরও খোলাসা করেন। কোন দপ্তরে, কীভাবে, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে টাকা নেয়, তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরুন। প্রয়োজনে তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করুন। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে সরকারের কাছেও আমাদের অনুরোধ, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখুন। সত্যিই যদি এমন অনিয়ম থেকে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
আরেকটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যদি বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা যায় না কেন? দেশের পোশাকশ্রমিকেরা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতনের দাবি করছেন। তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করা জরুরি।
আমরা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে চাই না, আমরা সত্য জানতে চাই। টেবিলের নিচের লেনদেনের অভিযোগের রহস্য উন্মোচিত হোক, দুর্নীতি বন্ধ হোক এবং শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার পান। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।