বৃদ্ধ বাবার একমাত্র সন্তান বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় মারা যায়, তারপর থেকে অসুস্থ স্ত্রী ও ছেলে বাউ এবং এতিম দুই নাতিদের খাবার জোগাতে না পেরে আহাজারি করে কান্না করছেন। বৃদ্ধ বাবার মুখের দিকে তাকালে কেমন জানি একটা মায়া লাগে। বয়স হয়েছে কিন্তু তার কষ্টগুলো মুখে ফুটে উঠছে।
৮২ বছর বয়সে যেখানে মানুষের বিশ্রাম আর ইবাদতে কাটানোর কথা, সেখানে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ৮২ বছর বয়সী আজহার আলী এখন এক চরম অসহায়ত্বের শিকার। সিরাজগঞ্জের রতনকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা আজহার আলী আজ তার অসুস্থ স্ত্রী, বিধবা পুত্রবধূ এবং এতিম দুই নাতির মুখে অন্ন তুলে দিতে পারছেন না বলে অঝোরে কাঁদছেন।
চার বছর আগে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে আউলিয়াকে হারিয়ে পরিবারটি শোকের সাগরে ডুবে যায়। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তার ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী আমিনা খাতুন মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। অর্থের অভাবে আজ তার স্ত্রীর চিকিৎসা সম্পূর্ণ বন্ধ। অন্যদিকে, পুত্রবধূ সোনিয়া স্বামী হারানোর পর দুই সন্তানকে নিয়ে এই অভাবের সংসারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।
ভাঙাচোরা ঘর আর নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে আজহার আলীর কান্না যেন সমাজের অবহেলিত মানুষের আর্তনাদ। প্রতিবেশীরাও তাদের এই করুণ দশা দেখে ব্যথিত, কিন্তু নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে সাহায্য করতে পারছেন না। একটি পরিবারকে রক্ষা করতে এবং এতিম দুই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের মানবিক সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।