মাত্র ২২ বছর বয়স! পেটে তিন মাসের সন্তান! বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সেই তরুণীর মৃ*ত্যু—অ”ভিযোগ, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো নাস্তা কম হওয়াকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল নি*র্যা*ত**ন!
একবার ভাবুন তো, যে মেয়েটি নতুন সংসার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখেছিল, তার জীবনের গল্পটা এভাবে শেষ হয়ে যাবে, তা কি কেউ কল্পনা করতে পেরেছিল?
ঘটনাটি চট্টগ্রামের পটিয়ার। নিহত তরুণীর নাম সিফাতুন নূর। মাত্র পাঁচ মাস আগে এক দুবাইপ্রবাসীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্বামী বিদেশে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন।
অ’ভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সিফাতুনের মা নিজের হাতে তৈরি কিছু নাস্তা নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু সেই নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি ও ননদদের সঙ্গে কথা-কা”টা”কা”টি শুরু হয়। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুনকে মা*র*ধ*র করা হয়েছে বলে অ”ভিযোগ ওঠে।
এরপর শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। টানা নয় দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃ*ত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, এই তরুণীর সঙ্গে তাঁর অনাগত সন্তানটিও আর পৃথিবীর আলো দেখতে পারল না। 💔
অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সিফাতুন নিজেই নিজের ক্ষ*তি করার চেষ্টা করেছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো, আসলে কী ঘটেছিল? কেন এমন ম*র্মা*ন্তিক পরিণতি হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে।
একটি মেয়ের জীবন কি এতটাই মূল্যহীন যে পারিবারিক বিরোধ কিংবা সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে?
বাবার বাড়ি থেকে নাস্তা কম আসা, যৌ*তু*ক কিংবা পারিবারিক মান-অভিমান—কোনো কিছুই একজন মানুষের ওপর নি*র্যা*তনের অজুহাত হতে পারে না। বিয়ের পর একটি মেয়ে শুধু অন্য একটি বাড়িতে যায় না, সে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করে। সেই বাড়িতে তার নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা পরিবারের সবার দায়িত্ব।
পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। আমরা চাই, তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। কেউ অপরাধ করে থাকলে, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিচার নিশ্চিত হোক।
আল্লাহ সিফাতুন নূরকে ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অসহনীয় কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিন। 🤲😢
আপনার কী মনে হয়, বিয়ের পর একজন মেয়ের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে আমাদের সমাজের মানসিকতায় কী পরিবর্তন আনা সবচেয়ে জরুরি?