আওয়ামী লীগকে আর রা’জনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্পিকার…see more

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্পিকার
ভোলার তজুমদ্দিনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য, বিগত শাসনামলের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য দিলেন স্পিকার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিকার আওয়ামী লীগের বিগত শাসনামল, দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে দলটি ভবিষ্যতে আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পাবে না বলে মন্তব্য করেন।

তবে তাঁর বক্তব্যে জনগণের মনোভাব সম্পর্কে যে দাবি উঠে এসেছে, সেটিকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। দেশের সব মানুষের মতামত জানতে হলে নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপসহ অন্যান্য তথ্যও পর্যালোচনা করতে হবে।

দুর্নীতি ও বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ
স্পিকার তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাকালে দেশের সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। দলটির সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া বিগত সরকারের একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিদেশে দুই শতাধিক বাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, সম্পদের মালিকানা, নির্ভরযোগ্য নথিপত্র এবং তদন্তের ফলাফল যাচাই করা জরুরি। বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকাও ন্যায়বিচারের অংশ।

নিজের নির্বাচনী এলাকার অতীত রাজনীতি নিয়েও কথা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালের নির্বাচনে তোফায়েল আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে একজন প্রার্থীকে নিয়ে আসার বিষয়ে অভিযোগ করেন।

স্পিকার আরও দাবি করেন, ওই ব্যক্তি দুর্নীতির মাধ্যমে লালমোহনে বিপুল পরিমাণ জমি এবং ঢাকায় একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছিলেন। এসব বক্তব্যও তাঁর অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা প্রয়োজন; সংশ্লিষ্ট সম্পদ ও মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

তজুমদ্দিনের উন্নয়ন নিয়েও আশ্বাস
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি তজুমদ্দিনকে পৌরসভায় রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথা জানান। এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের বিনোদনের জন্য মেঘনা নদীর পাড়ে একটি পার্ক নির্মাণের আশ্বাস দেন।

স্থানীয় অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা উন্নত হলে এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হতে পারেন। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, অর্থায়ন, অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে অগ্রগতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তজুমদ্দিন উপজেলা শাখার পক্ষ থেকেও স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এর আগে তিনি উপজেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা
স্পিকারের বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ শুধু একজন নেতার বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। এ ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, আদালতের আদেশ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের মতামত—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি দলটির কার্যক্রমসংক্রান্ত আইনি অবস্থানও আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আইনগত সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ থাকলে তার পরিধি ও মেয়াদ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, আইনগত নথি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা জরুরি।

শেষ কথা
ভোলার তজুমদ্দিনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় নতু

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *