অবশেষে তাজমিনের মা গণমাধ্যমকে জানাই তাজমিন তার কোন কথাই…See More

অবশেষে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুললেন তাজমিনের মা, বললেন—মেয়েকে অনেক বুঝিয়েও কোনো কথা শোনাতে পারেননি!
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা কেয়া খাতুন ও বাবা আবদুল আলীম। মেয়ের মৃত্যুর পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাজমিনের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগের ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন তাঁর মা।

মেয়ের বন্ধুত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন মা
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেয়া খাতুন জানিয়েছেন, মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে তিনি আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁর দাবি, তাজমিনকে বিভিন্ন সময়ে বুঝিয়েছিলেন এবং তার চলাফেরার বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে তাঁর উদ্বেগ শেষ পর্যন্ত দূর হয়নি।

তাজমিনের মা একটি বান্ধবীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে মায়ের সন্দেহ বা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বান্ধবীকে কোনো অপরাধে জড়িত বলা যায় না। এ বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা পুলিশের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করতে হবে।

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় কী বলেছিল তাজমিন?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর তাজমিন বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা ফোনে যোগাযোগ করলে সে বান্ধবীর সঙ্গে আছে বলে জানায়। কিন্তু বান্ধবীর নাম ও তার পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলে তাজমিন তা জানায়নি বলে তার মা-বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানান।

পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাজমিনের কক্সবাজারে যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা শুরুতে জানতেন না। পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে রাজু চৌধুরী নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় এবং কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য সামনে আসে। এসব তথ্যের প্রতিটি দিক যাচাই করা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শেষবার মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় কী হয়েছিল?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনের মা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন বলেছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা তাকে কোথায় আছে তা জানাতে এবং প্রয়োজনে নিয়ে আসার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এরপর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে পরিবারটির মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

পুলিশের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস থেকে নামার পর তাজমিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। পরে তাকে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মেয়েকে হারিয়ে এখন বিচার চান মা-বাবা
তাজমিনের মৃত্যুর পর পরিবারটির প্রধান চাওয়া—ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, শেষ মুহূর্তের যোগাযোগ এবং বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পরিবারটির কাছে এখন বেদনাদায়ক স্মৃতি।

তবে এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী ধরে নেওয়া উচিত নয়। তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারিত হওয়া দরকার।

শেষ কথা: তাজমিনের মায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে মেয়েকে নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ও অসহায়তার কথা। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় তাজমিনের ওপর চাপানো যায় না। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার ওপর সংঘটিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *