মৃ/ত্যু/র আগে কি ঘ’টেছিল তাজনিমের স’ঙ্গে, ধ’রা পড়ল সিসি’টিভি ফু’টে’জে…See More

৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনাস্থল জুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি এবং ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি জমির মাঠে এ চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে পড়েছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সকালে আশেপাশের মানুষদের কাছে শুনতে পাই ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে আছে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘটনা সত্য। সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরেই দেখতে পাই একটি ভেনেটি ব্যাগ। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে গিয়ে দেখি একটি নারীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে যখন দেখলাম দলে দলে মানুষ আসছে দেখার জন্য, তখন একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দিই।

মো. মুহিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, যারাই মেয়েটিকে মেরেছে, তারা মেয়েটিকে অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে। সেটি ধানক্ষেতের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। মেয়েটি সম্ভবত নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পেরে ওঠেনি।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মুখে কাদা এবং গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করেই তাজমিনকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *