ওসি গণমাধ্যমকে জানালেন, তুহিন স্বীকার করেছে—পূর্বপরিকল্পনা করেই অপ্রতিমকে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল
কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে—অপ্রতিমের দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পূর্বপরিকল্পনা করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজে তুহিনকে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়। এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তুহিন জানায়, অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনার সঙ্গে ফাহাদ ও কামরুল নামের আরও দুজন জড়িত ছিল বলেও তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে। পরে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে ঘটনার সূত্র মেলে
পুলিশ জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমকে নির্জন এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়। এরপর তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অপ্রতিমের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্জন এলাকায় অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম এতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আদালতেও জবানবন্দি
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে আদালতে নেওয়া হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার চূড়ান্ত দায় বা অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কথা এখনই বলা যায় না; মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। প্রথম দিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তার দেখানো স্থান থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আরও কেউ জড়িত কি না, চলছে তদন্ত
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগী ছিল কি না, সে বিষয়েও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের মতো একটি শিশুকে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করার অভিযোগে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো উদ্দেশ্যে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটার অভিযোগ সমাজে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে মামলার তদন্ত ও আদালতের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আসামিদের জবানবন্দিকে মামলার তদন্ত-পর্যায়ের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় ও শাস