আ.লীগের কার্যক্রমে নি’ষে’ধা’জ্ঞা প্র’ত্যা’হা’রের বাংলাদেশ কে যে বার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র…See More

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারের—এমন অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টানাপোড়েনকে দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় অস্বস্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক এক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

হাসিনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই

শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান এক সাংবাদিক।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই। তবে তার ভারতে অবস্থানকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দেখতে চায় ওয়াশিংটন।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।ইতিহাসের বই পড়ুন

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, এটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা বা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে দেখছে না।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা হয়েছিলো। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো বহাল রাখা হয়।

বাংলাদেশ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ‘চমৎকার’ডিজিটাল
বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ককে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষ নিতে চায় না বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশকে শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার কথা

সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা আল-কায়েদাকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনও দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত পর্যালোচনা না করায় নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতায় ঢাকাকে পক্ষ নিতে চাপ নয়

বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে না বলেও জানান মার্কিন কর্মকর্তা।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাতে নিরাপদ বিকল্প তৈরি করতে চায় ওয়াশিংটন।ইতিহাসের বই পড়ুন

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো খাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিকল্প দেয়ার উদ্যোগ

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি–সমর্থিত বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বিকল্প সরবরাহের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমমনা মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে এসব ক্ষেত্রে নিরাপদ বিকল্প উপস্থাপনের জন্য ওয়াশিংটন কাজ করছে বলে জানান মার্কিন কর্মকর্তা।ডিজিটাল ম্যাপ দেখুন

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের এ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নেয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের সরকারের এখতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েনের ক্ষেত্রে দুই দেশকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *