আন্দোলনে ভা*ঙচু*রের ভিডিও করায় কি কা*ল হলো তৌফিকের? একটি … more

আন্দোলনে ভা*ঙচু*রের ভিডিও করায় কি কা*ল হলো তৌফিকের? একটি পরিবারের কান্নার দায়ভার কে নেবে?
একটি প্রা*ণ হা*নি, একটি পরিবারের স্বপ্নভ*ঙ্গ, আর সারাজীবনের কা*ন্না—তৌফিকের ম*র্মা*ন্তি*ক মৃ*ত্যু আবারও আমাদের সামনে রেখে গেল অনেক প্রশ্ন। যে বয়সে একজন তরুণের নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে পৃথিবী ছে*ড়ে চলে যেতে হলো। কিন্তু কেন? তাঁর অপরাধ কী ছিল?
দেশে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন চলছে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার শ্রমিকদের রয়েছে। কিন্তু কোনো ন্যায্য আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যদি কিছু ব্যক্তি ভা*ঙ*চু*র, অ*গ্নি*সং*যো*গ কিংবা স*হিং*স কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেই কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে কিছু ব্যক্তি ভা*ঙ*চু*র চালাচ্ছিল। সেই ভা*ঙ*চু*রের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়েই দু*ষ্কৃ*তকারীদের হা*ম*লার শি*কার হন তৌফিক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃ*ত্যু হয় বলে জানা গেছে। যদি অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—নিজের চোখে দেখা ঘটনা ভিডিও করাই কি ছিল তাঁর অ*প*রাধ? কেন একজন তরুণকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো?
তৌফিকের বাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি আরও হৃদয়বিদারক। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। ভাইয়ের আ*হাজা*রি, স্ত্রীর বু*ক ফা*টা কা*ন্না, মায়ের সন্তানের জন্য হাহাকার—কোনো কিছুতেই যেন থামছে না শো*কের মাতম। তাঁর ছোট্ট শিশুটি হয়তো এখনো বুঝতে পারছে না, তার বাবা আর কখনো ফিরে আসবে না। যে মানুষটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখতেন, আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবারটি দিশেহারা। প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর মধ্যেও বিরাজ করছে শো*কের ছায়া।
একজন মানুষের মৃ*ত্যু শুধু একটি জীবনের সমাপ্তি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের হাজারো স্বপ্ন, আশা ও বেঁ*চে থাকার অবলম্বন। একজন মা হারিয়েছেন তাঁর সন্তানকে, একজন স্ত্রী হারিয়েছেন জীবনসঙ্গীকে, একটি শি*শু হারিয়েছে বাবার স্নেহ-ভালোবাসা। এই শূন্যতা কি কোনো দিন পূরণ হওয়ার?
এখন সরকারের কাছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আমাদের কয়েকটি প্রশ্ন। তৌফিকের ওপর হা*ম*লা*র সঙ্গে কারা জড়িত ছিল? কেন তাঁকে হামলার শি*কার হতে হলো? ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে কি? তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে কে দাঁড়াবে?
আমরা চাই, তৌফিকের মৃ*ত্যু*র ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হোক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের চি*হ্নিত করা হোক। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার কোনো অপরাধীও যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের আড়ালে পার পেয়ে না যায়।
একই সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের প্রতি আহ্বান—আপনাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখুন। যারা আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে ভা*ঙচু*র ও স*হিং*সতা সৃষ্টি করে, তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। কারণ স*হিং*সতার ক্ষ*তি শেষ পর্যন্ত শ্রমিক, সাধারণ মানুষ এবং দেশের অর্থনীতিকেই বহন করতে হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও উচিত আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমাধান করা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আমরা চাই না, আর কোনো তৌফিককে প্রা”ণ হারাতে হোক। আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক, আর কোনো স্ত্রীকে স্বামীহারা হতে হোক, আর কোনো শিশুকে বাবার ভালোবাসা ছাড়াই বড় হতে হোক।
তৌফিকের মৃ*ত্যু*র সু*ষ্ঠু বিচার চাই। তাঁর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানাই।
সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—তৌফিকের এই অ*কা*লমৃ*ত্যুর দায়ভার কে নেবে? আর কত পরিবারকে এমন বু*কফা*টা কা*ন্না নিয়ে বেঁ*চে থাকতে হবে?

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *