আবশেষে ডি এনএ প’রীক্ষায় মিললো সত্যতা… More

অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সত্যতা! কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আগুনে মরদেহগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক উপায়ে পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে তাঁদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে।

২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার কোনো সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের কোনোটির ডিএনএর সঙ্গে তাঁর নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

কীভাবে শনাক্ত করা হলো নিহতদের পরিচয়?
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আগুনে মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে সিআইডি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নমুনার সঙ্গে সেগুলো তুলনা করে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের পর ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষা এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার সাহায্যে জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির পরিচয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা যায়। দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড কিংবা দুর্ঘটনায় মরদেহের চেহারা শনাক্ত করা কঠিন হলে এই পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকার শ্যামলী এলাকার একটি পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।

একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর খবর স্বজনদের জন্য গভীর শোকের বিষয়। একসঙ্গে বেড়াতে যাওয়া কিংবা পারিবারিক সময় কাটানোর মতো সাধারণ পরিকল্পনাও কখনো কখনো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে দুঃসহ স্মৃতিতে পরিণত হয়।

তবে প্রতিটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোক ও পরিস্থিতি আলাদা। তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অনুমান না করে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যেই থাকা জরুরি।

শনাক্ত হওয়া অন্য ছয়জনের পরিচয়
সংবাদ প্রতিবেদনে শনাক্ত হওয়া অন্য ছয়জনের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়া কবিরের ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং তাঁর ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এখনো নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, নিখোঁজদের মধ্যে থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার অবস্থান তখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসরিন ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে তিনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষায় তাঁর নমুনার সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে। বরং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থেকে যায়।

ডিএনএ পরীক্ষার ফল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি স্বজনদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয়জনের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, মরদেহ গ্রহণ করা এবং শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করার জন্য নির্ভুল পরিচয় শনাক্তকরণ প্রয়োজন।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থাগুলোও দুর্ঘটনায় হতাহতদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে পারে।

তবে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

তদন্তে এখন কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
অগ্নিকাণ্ডের পর শুধু নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, ভবন বা রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা কেমন ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে আগুন লাগার কারণ বা কারও দায় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

শেষ কথা
কক্সবাজারের উখিয়ার রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হওয়া তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এতে তাঁদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের পথ তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও নিখোঁজ শিক্ষিকার পরিণতি সম্পর্কে তখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সন্ধান এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখা জরুরি।

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *