ম’য়লার স্তূ’পে মিলল নতুন সিরিঞ্জ, ক্যা’/নুলা ও স্যালাইন… more

ময়লার স্তূপে মিলল নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন! 😳 হাসপাতালের জিনিস কীভাবে পৌঁছাল ময়লার গুদামে? এরপর যা জানা গেল, তা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন!
যে চিকিৎসাসামগ্রী রোগীদের সেবায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়, সেগুলোই যদি হাসপাতালের বাইরে ময়লার গুদামে পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক! ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে শম্ভুগঞ্জের একটি ময়লার গুদামে। অভিযোগ উঠেছে, এসব সামগ্রী আলাদা করে রেখে কিছু হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়, আর বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়। তবে কীভাবে এসব সামগ্রী বাইরে গেল, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ময়লার সঙ্গে বেরিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসাসামগ্রী, পাইকারি বিক্রির অভিযোগ
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজারো মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মমেক)। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ও তাঁদের স্বজন চিকিৎসাসেবা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী শম্ভুগঞ্জের একটি ময়লার গুদামে পাওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
গুদামে পাওয়া সামগ্রীগুলোর প্যাকেটের গায়ে ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, এসব পণ্যের মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। ফলে ব্যবহারের উপযোগী থাকতে পারে—এমন চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে ময়লার সঙ্গে হাসপাতালের বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে তাঁদের প্রায়ই নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে পাওয়ার ঘটনা হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শম্ভুগঞ্জের ওই গুদামে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে। ময়লা সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, প্রতিদিন ময়লার সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন চলে আসে। সেগুলো আলাদা করে বস্তায় রাখা হয়। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হলেও বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
ময়লা সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন জানান, ময়লা সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজে মোট ১১ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন। বাকি সাতজন গুদামে এসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করেন।
তিনি আরও জানান, ময়লার সঙ্গে প্রতিদিন নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন পাওয়া যায়। এগুলো আলাদা বস্তায় রাখা হয়। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা সরঞ্জাম জমা হলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। বাকি সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।
এ ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও তদারকির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর মতে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার বাইরে এসব চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের নয়, বাইরের।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এসব সামগ্রী কীভাবে বাইরে গেল এবং কীভাবে সেগুলো ফেরত আনা হবে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হবে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি ময়লা সরানো হয়। এসব ময়লার মধ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছে এবং সেগুলোর প্রকৃত গন্তব্য কোথায়? এসব সামগ্রী পুনরায় বিক্রি বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
আপনার কী মনে হয়, হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী এভাবে বাইরে যাওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

Author: Desh Katha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *