এত গুলো বাচ্চাদের বাবা ❤️
৫৭ বছর বয়সে ৪ স্ত্রীকে নিয়ে ৫৮ জন সন্তান জন্ম দিয়েছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সাদিক। কিছুদিন আগে জন্ম নিয়েছে তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। কিন্তু এই বিশাল পরিবারের আড়ালে লুকিয়ে আছে যে নির্মম বাস্তবতা…
মোহাম্মদ সাদিকে প্রথম বিয়ে করেছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সে। তারপর একে একে করেছেন চারটি বিয়ে। জন্ম দিয়েছেন ৫৮ জন সন্তান।
কেন এতগুলো বিয়ে করলেন এবং এতো সন্তান নিলেন, বিবিসির করা প্রশ্নে মোহাম্মদ সাদিক বলেন: প্রত্যেকটি বিয়ে করার জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জোগাতে হয়েছে। এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত বাড়াতেই তিনি এত সন্তান নিয়েছেন।
৫৮ জন সন্তানের নাম মনে রাখার প্রশ্নে সাদিক নিজেই স্বীকার করে বলেন: আমার সকল সন্তানের নাম আমার নিজেরও মনে থাকে না। আমি তাদেরকে বাবা সোনা বলেই আদর করে ডাকি।
এমনকি আমার এক মেয়ের বিয়ের সময় আমি কাজী সাহেবকে অন্য মেয়ের নাম বলে দিয়েছিলাম।
তিনি আরো বলেন: পরিবারের সকল সদস্য ঘরে ফিরেছে কিনা বোঝার জন্য আমি তাদের গুনে দেখি। যদি সংখ্যায় কম হয় তাহলে তাদের খুঁজতে বের হই।
এত বড় পরিবার সামলানোটা ও চাট্টিখানি কথা নয়: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় দুইজন করে স্ত্রী পালাক্রমে রান্না করেন স্বামী সন্তানদের জন্য।
কিন্তু এই পরিবারের সবচেয়ে কষ্টের দিকটি হলো তাদের দারিদ্র্য।
সাদিক কমিশনে গাড়ি বিক্রির কাজ করেন। একটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে তিনি ১০০০ আফগানি পান। এই অল্প আয়ে এতগুলো সন্তান তাদের খাবার পোশাক চিকিৎসার খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব।
অনেক সময় না খেয়েই ঘুমিয়ে যেতে হয় সন্তানদের। শীতের রাতে একটি কম্বল ভাগ করে ব্যবহার করতে হয় কয়েকজন সন্তান মিলে।
এরই মধ্যে দারিদ্রতা এবং অসুস্থতার কারণে তিনি তার ১৪ জন সন্তানকে হারিয়েছেন। সাদিক লেখাপড়া না জানলেও তিনি চান তার সন্তানরা লেখাপড়া করুক। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করুক এবং বিশ্ব সম্পর্কে জানুক।
————————————————————————–
সাদিকের সন্তানদের জন্য সত্যিই খারাপ লাগে। এই নিষ্পাপ শিশুরা তো নিজেদের জন্ম বা পারিবারিক পরিস্থিতি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়নি। অথচ তাদেরই ক্ষু*ধা, শীত আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
একটি শিশুর সবচেয়ে বড় অধিকার হলো—সে যেন খাবারের অভাবে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে না পড়ে, শীতের রাতে কষ্ট না পায় এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই শিশুদের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেন, তাদের পেট ভরে খাবার খাওয়ার সুযোগ দেন এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ খুলে দেন। আমিন।