জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে ঘিরে ডিপফেক ভিডিও বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত করে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ফলে এখন আর সবাই চাইলেই তার পোস্টে ইচ্ছেমতো মন্তব্য করতে পারবেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং অনলাইনে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পরই এমন পদক্ষেপ সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ফেসবুক পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত মেহজাবীনকে ঘিরে কিছু ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি তাদের পেজ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিও প্রচার এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় মেহজাবীন চৌধুরী। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কাজ, ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত এবং ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন তিনি। এসব পোস্টের মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে যোগাযোগও বজায় রাখেন এই অভিনেত্রী।
তার বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫৮ লাখ। নিয়মিত তার পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানান ভক্তরা। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর নিজের পোস্টে মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত করেছেন তিনি।
তার সর্বশেষ দুটি ফেসবুক পোস্টে এই পরিবর্তন দেখা গেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ডিপফেক ভিডিও নিয়ে দেওয়া একটি পোস্টে ৫৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছিল। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরও বন্ধ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। পরে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়েকটি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। সেখানেও মন্তব্য করার সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে, ফলে নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যবহারকারীই মন্তব্য করতে পারছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেহজাবীনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন অভিনেত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্টের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মেহজাবীনের বক্তব্য, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়; বরং এটি অপরাধ। তার মতে, এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যখন একই কনটেন্ট শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করতে থাকেন, তখন বিষয়টি আর শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যার চিত্র তুলে ধরে। এ ধরনের ঘটনা সমাজের মানুষের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং অনলাইন আচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব কোনো ব্যক্তির মুখাবয়ব বা পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। এসব কনটেন্ট অনেক সময় আসল বলে মনে হতে পারে। ফলে যাচাই না করে তা ছড়িয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
মেহজাবীনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও অনলাইনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও বা ছবি দেখলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া কিংবা যাচাই ছাড়াই শেয়ার করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। কনটেন্টের সত্যতা যাচাই করা এবং কারও সম্মানহানির কারণ হতে পারে—এমন কিছু প্রচার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে ডিপফেক ভিডিও বিতর্কের পর নিজের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্যের সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। যদিও মন্তব্য সীমিত করার বিষয়ে অভিনেত্রী আলাদাভাবে কোনো কারণ জানিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়; তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তার এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার, অনলাইনে গুজব ছড়ানো এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোও সামনে এসেছে।